দিল্লিতে আজও বড় বিক্ষোভ! সিইসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত
দিল্লিতে আজও বড় বিক্ষোভের ডাক জেন-জিদের, সিইসির পদত্যাগের দাবি
ভারতের দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন থেকে সরে আসছেন না তরুণ বিক্ষোভকারীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রোববার আবারও বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি এবং একাধিক ছাত্রসংগঠন। সকাল ১০টায় দিল্লির যন্তর মন্তরে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ বা অপসারণ দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। সিজেপির জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্কা শিন্ডে বলেছেন, সরকার হয়তো ভেবেছিল, ধরপাকড়ের পর আন্দোলনকারীরা বাড়ি ফিরে যাবেন। কিন্তু তাদের এই পদক্ষেপই প্রমাণ করে, সরকার আন্দোলন নিয়ে উদ্বিগ্ন।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা আটক থাকায় আপাতত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অজিঙ্কা শিন্ডে। শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পর দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযানে বহু মানুষকে আটক করা হয়। পরে তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও সংগঠনটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা তখনো আটক ছিলেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আটক নেতাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। এমনকি অভিজিৎ দীপকের দাদি মারা গেলেও তাঁকে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এদিকে, আন্দোলন আরও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া বা এসএফআই। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইন্ডিয়াও সোমবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, জোটের নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেবেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চার দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয় বিরোধী জোট। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তি দেওয়া আইন বাতিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর স্থগিত এবং বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহাল। পাশাপাশি নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা এবং ভোট চুরির অভিযোগ ওঠা কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচন বাতিলের দাবিও জানিয়েছে তারা।
এদিকে, শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা, ট্রেন বাতিল এবং যন্তর মন্তরের আশপাশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে।
সব মিলিয়ে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। আজকের বিক্ষোভে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।