ইরান যুদ্ধের জের, ১০ দিনে বাতিল প্রায় ২৪ হাজার ফ্লাইট

১০ মার্চ ২০২৬ - ০৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
 0
ইরান যুদ্ধের জের, ১০ দিনে বাতিল প্রায় ২৪ হাজার ফ্লাইট

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলে। মাত্র ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি বড় এয়ারলাইন্সকে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এতে লক্ষাধিক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং বিমান সংস্থাগুলোকে গুনতে হচ্ছে বিপুল আর্থিক ক্ষতি।

সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বহু দেশে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান সংস্থাগুলো।

এই তিন দেশের ছয়টি বড় এয়ারলাইন্স প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৩৮১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে লক্ষাধিক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত ১ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৫০টি ফ্লাইট উড্ডয়ন করতে পেরেছে। ফলে গত ১০ দিনে মোট বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮১০টিতে।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি বড় বিমান সংস্থা— ইতিহাদ, এয়ার অ্যারাবিয়া, ফ্লাই দুবাই, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এবং কুয়েত এয়ারওয়েজ প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখো যাত্রী পরিবহন করে থাকে।

সংঘাত শুরুর আগে কুয়েত এয়ারওয়েজ প্রতিদিন ২৮৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করত। ফ্লাই দুবাই ৩৪৩টি, এমিরেটস ৫৩১টি, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ৩৩৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ৩০৫টি এবং কাতার এয়ারওয়েজ ৫৮৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করত। কাতার এয়ারওয়েজ ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করত।

তবে গত ১০ দিনে এই ছয়টি এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে মাত্র প্রায় ৫০টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। কাতার, এমিরেটস এবং কুয়েতের বিমান বহরে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে এয়ারবাস এ৩৮০, এ৩২০, এ৩৫০, এ৩২১ এবং বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৮৭ উল্লেখযোগ্য।

এমিরেটসের বিজনেস ক্লাস সেবায় ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ থেকে শুরু করে বিমানের ভেতরে শাওয়ারের মতো সুবিধাও রয়েছে। তবে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই এই এয়ারলাইন্সগুলোর বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

পাকিস্তান ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা খাজা আইয়ুব নাসিম সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিমান খাত ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ‘টিকিট ফেরত দেয়ার কাজ করতে করতে ট্রাভেল এজেন্টরা ইতোমধ্যেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে বিলিয়ন রুপির হোটেল বুকিং বাতিল করা যাচ্ছে না। এই ক্ষতির দায় কে নেবে, সেটাই প্রশ্ন।’

এর আগে ইসলামাবাদ, লাহোর, করাচি ও মুলতান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালিত হতো। বর্তমানে এসব ফ্লাইট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। নাসিম বলেন, সাধারণত এই সময়টি ওমরাহ ও ঈদের ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।


তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকেও সম্ভবত একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।