যুদ্ধের ময়দানে ধর্ম দেখিনি: প্রধানমন্ত্রী

১৯ অক্টোবর ২০২৬ - ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
 0
যুদ্ধের ময়দানে ধর্ম  দেখিনি: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম নয়, সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান—সব সংগ্রামেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।” রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মহাখালী ও গুলশান-বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ধর্মীয় পরিচয় কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বিভিন্ন সময়ে যখন গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখন জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে নেমেছে। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ দলমত নির্বিশেষে অংশ নিয়েছেন। সেদিনও কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করেননি; বরং সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনকে সফল করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশকে স্বাধীন করা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যেমন ধর্ম বা জাতিগত পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, তেমনি আগামী দিনে দেশ গড়ার কাজেও এসব পরিচয় মুখ্য হওয়া উচিত নয়। বরং কে বাংলাদেশের নাগরিক, কে এই দেশকে ভালোবাসেন—সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। দেশের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্ম ও পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। ভবিষ্যতেও যেন সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

এর আগে রাতে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।