গ্যাস সংকট কাটবে কবে? জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
দেশের চলমান গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে জ্বালানি খাতে স্বস্তি ফিরতে আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্রেটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা থেকেই বর্তমান গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে জনগণকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, সরকার তা স্বীকার করছে। প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও গ্যাসের ঘাটতির কারণে তৈরি হওয়া এই সংকটের পুরো দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানো সঠিক নয়।
গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের ওপর দায় চাপানো বিরোধী দলের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। তবে অপ্রয়োজনীয় আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো উচিত নয়। তিনি বিরোধী দলকে রাজপথের পরিবর্তে সংসদে গিয়ে যুক্তি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
গ্যাসের ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে দেশের চাহিদার তুলনায় প্রতিদিনই বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। কয়েকটি কারখানা চালু হলেও চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান পুরোপুরি দূর হবে না। দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির বিষয়েও কাজ চলছে। স্থলভাগে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ জন্য নতুন দুটি রিগ কেনার পাশাপাশি বিদ্যমান রিগগুলো সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের স্থলভাগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান ডা. জাহেদ। বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে এসব সম্ভাবনা চিহ্নিত হলেও দীর্ঘদিন তা কাজে লাগানোর মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার এখন গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গুরুত্ব দিচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়লা ব্যবহারের বিষয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে ডা. জাহেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনকার সংকটে পড়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তাও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজার আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
সভায় দেশের প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন নিয়েও আলোচনা হয়।
ডা. জাহেদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে হবে। হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন গতি আনতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব দীপংকর বিশ্বাস, রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।