যুক্তরাষ্ট্র ‘কৌশলগত নিঃসঙ্গতায়’ দাবি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ‘কৌশলগত নিঃসঙ্গতায়’ ভুগছে, দাবি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘কৌশলগত নিঃসঙ্গতায়’ ভুগছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আকরামিনিয়া। তাঁর অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা নয়, বরং ইরানি-ইসলামি সভ্যতার ভিত্তিও দুর্বল করে দেওয়া।
ইরানের এই সামরিক মুখপাত্রের মতে, সামরিক শক্তির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রভাব ও জনমত গঠনও সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার পরিপূরক হিসেবে ‘সফট পাওয়ার’ বা কোমল শক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দেশের প্রভাব বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
ইরানের সেনাবাহিনীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে আকরামিনিয়া বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনা দেশটির সামরিক বাহিনীর আদর্শিক ভিত্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর দাবি, সেনাবাহিনীর আদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এই চেতনা গড়ে তোলা এবং ধরে রাখতে ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের তৈরি করা বিজয়ের বয়ানের মোকাবিলা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
আকরামিনিয়ার অভিযোগ, ইরানের বিপ্লবের নেতা ও সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করে দেশটির জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করার পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা। তাঁদের ধারণা ছিল, এর মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব হবে।
তবে তাঁর দাবি, ঐতিহাসিক দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে ইরানের জনগণ সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও জনগণ নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের এই বক্তব্যে সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিচয় ও জনমত গঠনের ওপর তেহরানের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও কৌশল নিয়ে ইরানি কর্মকর্তার এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উল্লেখিত হয়নি। বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও স্বাধীন সূত্রের তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।