২০২৬ সালে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা কমার ইঙ্গিত

২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ - ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
 0
২০২৬ সালে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা কমার ইঙ্গিত

রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালে ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে যাচ্ছে। মার্কিন সরকারের প্রকাশিত বাজেটসংক্রান্ত নথিতে দেখা গেছে, ভবিষ্যতে কিয়েভকে আর আগের মতো ওয়াশিংটনের বহু বিলিয়ন ডলারের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারবে না।

২০২৬ অর্থবছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটে ‘ইউক্রেন সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির আওতায় ইউক্রেনের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থ নতুন অস্ত্র ক্রয়ের কাজে ব্যয় করা হবে। একই পরিমাণ অর্থ ২০২৭ অর্থবছরের জন্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে একই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেনকে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভকে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১২৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে অস্ত্র সরবরাহে, ৫৪ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে বাজেট সহায়তা হিসেবে—যার মধ্যে বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অন্তর্ভুক্ত—এবং মানবিক সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ইউক্রেনের জন্য করদাতাদের অর্থ সরাসরি ব্যয় করবে না। তার মতে, ন্যাটোর অংশীদার দেশগুলোর কাছে পূর্ণ মূল্যে অস্ত্র বিক্রি করা হবে এবং পরে সেগুলো ইউক্রেনে পাঠানো যেতে পারে।

অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে অস্ত্র সরবরাহকে রাশিয়া বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে। তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সহায়তা যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।