পাকিস্তানকে ভাঙার পরিকল্পনা? ক্ষমতা বাড়াতে চান আসিম মুনির!

১০ অক্টোবর ২০২৬ - ১৬:৫২ অপরাহ্ণ
 0
পাকিস্তানকে ভাঙার পরিকল্পনা? ক্ষমতা বাড়াতে চান আসিম মুনির!

বিরোধীদের ক্ষমতা খর্ব করতে পাকিস্তানকে ছোট ছোট প্রদেশে ভাগের পরিকল্পনা আসিম মুনিরের!

পাকিস্তানের বর্তমান চারটি প্রদেশ ভেঙে দেশটিকে ছোট ছোট প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা করছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির—এমন দাবি করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। তবে এই পরিকল্পনার পেছনে প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বর্তমান চার প্রদেশ পাঞ্জাব, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানকে ভেঙে ১২ থেকে শুরু করে আরও অনেক ছোট প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। দেশটিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রভাব রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রদেশগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে ভাগ করা হলে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্ষমতাকেন্দ্রগুলো দুর্বল হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব আরও শক্তিশালী হতে পারে।

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ বা পিএমএল-এনের দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে, সিন্ধু প্রদেশে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপি। প্রদেশগুলো দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এদিকে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দ্য ইকোনমিস্ট। খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ ও নিরাপত্তাসংকট চলছে। দেশটির প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি, ছোট অঞ্চল গঠন করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হতে পারে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, প্রশাসনিক সংস্কারের নামে প্রদেশ ভাগ করা হলে তা সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করবে, নাকি রাজনৈতিক বিরোধীদের ক্ষমতা সীমিত করার হাতিয়ার হয়ে উঠবে?

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুরবস্থার পেছনে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো নয়, সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়েও দেশটিতে টানাপোড়েন চলছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রদেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তবে আসিম মুনিরের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি আপাতত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।