সরকারের ১৮০ দিন: ১০ দিকের কর্মযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরল সরকার
দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্ণ করেছে সরকার। ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সরকারের গত ১৮০ দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ছয় মাসে গণতন্ত্র, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, পরিবেশ ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের বক্তব্যে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমকে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
প্রথমত, জনসমর্থন। সরকারের দাবি, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর গত ছয় মাসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও সমর্থন দেখা গেছে।
দ্বিতীয়ত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শতাধিক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের কথাও তুলে ধরা হয়।
তৃতীয়ত, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন। সরকারের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইশতেহারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। কৃষকদের ঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড, কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরা হয়।
চতুর্থত, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করা, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, এসএসসি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
পঞ্চমত, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা, প্রবাসী, শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা বাড়ানো, নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ রয়েছে।
ষষ্ঠত, আর্থিক খাতে সংস্কার। সরকার বলছে, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কর ও ব্যবসায়িক নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি কমা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।
সপ্তমত, আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার। সরকারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের কিছু আলোচিত মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে অগ্রগতির কথাও জানানো হয়।
অষ্টমত, অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়ন। যানজট কমাতে এআই ট্রাফিক ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, ইলেকট্রিক বাস, নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারেজ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
নবমত, সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। চীন ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
দশমত, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব। সরকারের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি জনগণের কাছে যাওয়া, তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময়ের জমে থাকা সমস্যাগুলো ছয় মাসে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব না হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ চলছে।
সরকারের দাবি, জনগণই এই সরকারের ক্ষমতার উৎস এবং আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য।