ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ সংঘর্ষ নিহত ৫২, আহত ৭০০+

১ অক্টোবর ২০২৬ - ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
 0
ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ সংঘর্ষ নিহত ৫২, আহত ৭০০+

ইথিওপিয়ায় তীব্র সংঘর্ষ, নিহত ৫২

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭০০ জনের বেশি। তিন দিন ধরে আলামাতা শহর ও আশপাশের এলাকায় সরকারি বাহিনী ও আঞ্চলিক যোদ্ধাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে।

হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সংঘর্ষে ভারী কামান ও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী, গবাদিপশু চরানো মানুষ এবং মাত্র তিন দিন বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। আলামাতা জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, শহরের একটি বাজারে হামলায় একসঙ্গে ১২ জন নিহত হয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনী আঞ্চলিক যোদ্ধাদের কাছ থেকে আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এখন তারা টাইগ্রের প্রধান শহর মেকেলের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আলামাতার রাস্তায় সেনাবাহিনীর ট্যাংক দেখা গেছে।

২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি হলেও কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চলছিল। গত সপ্তাহে তা আবারও সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে কে প্রথম হামলা চালিয়েছে, তা নিয়ে সরকারি বাহিনী ও টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট—টিপিএলএফের মধ্যে পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও। লালিবেলা শহরে আটকা পড়েছেন বিদেশি পর্যটকরা। শহরটির বিমানবন্দর বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ থাকায় অনেকে বের হতে পারেননি। সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা এমএসএফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টাইগ্রের তাদের সহায়তা পাওয়া হাসপাতালগুলোতে ৭০০ জনের বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ থাকায় মানবিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে অনেকে আলামাতা শহরে আশ্রয় নিচ্ছেন। কিন্তু সেখানে বিদ্যুৎ, ফোন, ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং সেবা বন্ধ থাকায় খাদ্য ও অর্থের সংকটও তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে টাইগ্রে সংঘাতে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়াও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার অভিযোগ তুললেও তা অস্বীকার করেছে ইরিত্রিয়া।

টেলিযোগাযোগ বন্ধ থাকায় টাইগ্রের পরিস্থিতি সরাসরি যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংঘর্ষের প্রকৃত চিত্র এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।