সাইবার সুরক্ষা আইন আবারও সংশোধনের উদ্যোগ

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
 0
সাইবার সুরক্ষা আইন আবারও সংশোধনের উদ্যোগ

সাইবার সুরক্ষা আইন আবার সংশোধনের উদ্যোগ

সাইবার অপরাধ, গুজব ও অপতথ্য ঠেকাতে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ আবারও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আইনটি সংশোধনের খসড়া এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। পরে সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ জন্য খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে মতামত পাঠানো হয়, যা সরকারের পক্ষ থেকে সংকলন করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি সংশোধন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেছেন, সাইবার সুরক্ষা আইনকে নিপীড়নমূলক হতে দেওয়া হবে না।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুজব, অপতথ্য, মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা, সাইবার বুলিং, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন ও সেক্সটর্শনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া এডিটেড বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কোনো কনটেন্ট ব্যবহার করে মানহানি বা হেয় প্রতিপন্ন করার বিষয়ও অপরাধের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, সাইবার মাধ্যমে গুজব বা অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

নারী ও ১৮ বছরের কম বয়সীদের বিরুদ্ধে মানহানি বা হেয় প্রতিপন্নকারী কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি, সাইবার স্পেসে দেশের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন তথ্য বা কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ব্যবস্থার কথাও খসড়ায় রয়েছে।

তবে আইনটির বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে গণমাধ্যম, মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলে মতামত ও উদ্বেগ রয়েছে। ফলে সংশোধিত আইনে সাইবার অপরাধ দমন এবং মতপ্রকাশের অধিকারের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।