বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার

১১ মার্চ ২০২৬ - ০৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
 0
বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার

বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্য সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনার কথা তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে থাইল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূতকে নিয়োগের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সম্পর্ক উন্নয়নে তার সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান বাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চিকিৎসা পর্যটনের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড এখনও বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।

দুই দেশের মধ্যে চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, থাইল্যান্ডে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর আগামী এপ্রিলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, এই বৈঠক চলতি বছরে উচ্চ পর্যায়ের সফরের পথ সুগম করবে।

আলোচনায় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী সুষম বাণিজ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বিদ্যমান শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর জোর দেন। সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) নিয়ে চলমান আলোচনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

রাষ্ট্রদূত পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে চলমান প্রশিক্ষণ সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন এবং জানান, এপ্রিলের শেষ দিকে থাই রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে একটি রন্ধনসম্পর্কীয় প্রচার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি যৌথ প্রদর্শনী ও বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রতিমন্ত্রী। জুলাই মাসে ঢাকায় থাই বাণিজ্য প্রদর্শনীর পরিকল্পনার কথাও জানান রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায়, বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সহায়তা কামনা করে বাংলাদেশ।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে পারস্পরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে বৈঠক শেষ হয়।