অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত

২ মে ২০২৬ - ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
 0
অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (এইচসিএসও) জানিয়েছে, ২৬ এপ্রিল উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ  ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির। শুক্রবার (১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার এ মামলার ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, এই শনাক্তকরণ যেমন কিছু উত্তর দিয়েছে, তেমনি গভীর শোকও বয়ে এনেছে। তিনি জানান, বৃষ্টি ও তার সহপাঠী জামিল লিমন—দুজনেই ২৭ বছর বয়সী পিএইচডি শিক্ষার্থী; তারা ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

তদন্তকারীরা প্রথমে লিমনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে অনুসন্ধান শুরু করে এবং সেখানে রক্তের চিহ্নসহ বিভিন্ন প্রমাণ পায়। এক সপ্তাহ পর কাছাকাছি একটি ডাস্টবিনে লিমনের রক্তমাখা সামগ্রী উদ্ধার হলে মামলাটি গুরুতর মোড় নেয়। পরবর্তীতে তার বাসা ও সন্দেহভাজনের কক্ষে রক্তের চিহ্ন এবং একটি মানুষের দেহের আকৃতির দাগ পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহর গাড়িতেও ব্রিস্টির রক্ত পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার অনলাইন কেনাকাটায় বড় ব্যাগ, পরিষ্কার করার সামগ্রী ও দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি এবং মোবাইল ফোনে হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত উদ্বেগজনক সার্চ হিস্ট্রি পাওয়া গেছে।

২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে একটি ব্যাগের ভেতর থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল এবং হাত-পা বাঁধা ছিল। পরদিন একই এলাকায় আরেকটি ব্যাগে পাওয়া মরদেহটি পরে ডিএনএ ও ডেন্টাল রেকর্ডের মাধ্যমে নাহিদা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করা হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও লিমন মেজেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করছিলেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা একসময় একসঙ্গে ছিলেন।

একই দিনে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে ৯১১-এ কলের পর সন্দেহভাজনকে আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয় এবং তদন্ত চলছে। নিহত দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশে পাঠানো হবে, যাতে তাদের পরিবার শেষ বিদায় জানাতে পারে।