পারমাণবিক ইস্যুতে আবার মুখোমুখি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ - ০৪:৫১ পূর্বাহ্ণ
 0
পারমাণবিক ইস্যুতে আবার মুখোমুখি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

২০২৫ সালের সংঘাতের পর প্রথমবারের মতো পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সম্ভাব্য এ বৈঠক আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নিতে পারেন। যদিও বৈঠকের সময় ও স্থান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি, তবে উভয় পক্ষই এটিকে সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করছে।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের আগে স্টিভ উইটকফ ইসরায়েল সফর করতে পারেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি তুরস্কে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে, এটি হবে জুন ২০২৫-এ শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি যোগাযোগ। ওই যুদ্ধের সময় পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়লে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে এবং বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে একটি কূটনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে।

এর আগে সোমবার ইরানের গণমাধ্যমে জানানো হয়েছিল, খুব শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা হতে পারে, যদিও তখন সময় ও স্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কূটনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনাগুলো কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এ আলোচনার আওতায় আসছে না।

অন্যদিকে ইসরায়েলি দৈনিক মারিভ দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের কাছে আরও কঠোর শর্ত উপস্থাপন করেছেন। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ, পাশাপাশি হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।

ইরান ইতোমধ্যে এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপ্রধান আলী বাঘেরি স্পষ্ট করে জানান, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো আলোচনায় বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।