মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট ১৫ নভেম্বরের মধ্যে লাগাতে হবে

১৮ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
 0
মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট ১৫ নভেম্বরের মধ্যে লাগাতে হবে

মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক, মানতে হবে যেসব নিয়ম

মোটরসাইকেলের সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসংবলিত প্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ—বিআরটিএ। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত মাপ, রং ও উপকরণ অনুসরণ করে এই নম্বর প্লেট লাগাতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সংস্থাটি। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল সহজে শনাক্ত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হতে হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার। উভয় ধরনের প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। প্লেট তৈরিতে ব্যবহার করতে হবে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম। পটভূমি হবে সাদা, আর রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা লিখতে হবে কালো রঙে। পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা নকশা রাখা যাবে না। স্কুটার ছাড়া অন্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর একটি আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। তবে সব ক্ষেত্রেই নির্ধারিত মাপ ও অন্যান্য শর্ত মানতে হবে।

ঢাকার বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর সহজে শনাক্ত করতেই সামনে নম্বর প্লেট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশ—ডিএমপি ও বিআরটিএকে। এর আগে, গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরা ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তবে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট বসানো নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বর্তমান মডেলের অনেক মোটরসাইকেলে সামনে নম্বর প্লেট লাগানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। ফলে প্লেট সংযোজন করতে গিয়ে মোটরসাইকেলের কাঠামো বা নকশায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া বেশি গতিতে চলার সময় বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি, মোটরসাইকেলের ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণে প্রভাব এবং ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এসব বিষয় পরীক্ষা করে মতামত দেওয়ার জন্য গত ১৩ আগস্ট সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিআরটিএ। কমিটিকে নম্বর প্লেটের আকার, সংযোজনের উপযুক্ত স্থান এবং এআই ক্যামেরায় প্লেটটি সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। কমিটিতে বিআরটিএ, ডিএমপি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়—বুয়েট, অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং মোটরসাইকেল উৎপাদন ও আমদানিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। উত্তরা মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিউর রহমান জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলের সামনে ও পেছনে দুটি নম্বর প্লেট বসানোর কথা বলা হলেও প্লেটের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আকার সম্পর্কে তাঁরা কোনো নির্দেশনা পাননি।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭০টি। প্রতিবছর দেশে প্রায় পাঁচ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। তবে সামনে নম্বর প্লেট লাগানোর নিয়ম রাস্তায় চলাচলকারী সব মোটরসাইকেলের জন্য কার্যকর হবে, নাকি শুধু নতুন মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশে অনেক মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নেই। আবার নিবন্ধিত কিছু মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট নষ্ট বা অস্পষ্ট। কেউ কেউ নম্বর প্লেট ঢেকে কিংবা আড়াল করেও চলাচল করেন। ফলে এসব মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সামনের নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।