সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগাতে বড় উদ্যোগ সরকারের

১৫ অক্টোবর ২০২৬ - ০৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
 0
সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগাতে  বড় উদ্যোগ সরকারের

সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বড় উদ্যোগ সরকারের
সমুদ্র, নদী ও জলসম্পদের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সমুদ্র অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ও দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত থাকলেও এসব সম্পদের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে এই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে চায় সরকার।
বন্দর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ীতে আন্তর্জাতিক মানের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলছে, যা ২০৩০ সালে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দরকে কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লালদিয়া টার্মিনালে ডেনমার্কের এপি মোলারের কার্যক্রমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার ওপর জোর দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদ আহরণ করতে হবে। কোনোভাবেই যেন পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, বন্দর ব্যবস্থাপনা, শিপিং সরঞ্জাম ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে সমুদ্রের অফশোর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, দক্ষ নাবিক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন নৌপরিবহনমন্ত্রী।
জ্বালানির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ন্যায্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ জরুরি হলেও এই পরিবর্তন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে। সমুদ্র ও জলসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।