৬২ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিশ্চয়তায় উদ্যোক্তারা

১৫ অক্টোবর ২০২৬ - ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ
 0
৬২ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিশ্চয়তায় উদ্যোক্তারা

৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ, ঋণ বিতরণে ধীরগতি
বন্ধ কারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। চার মাসে বিতরণ হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। আর বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা থেকে ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫০ কোটি টাকা। পুরো প্যাকেজ থেকে সরাসরি ঋণগ্রহীতাদের হাতে পৌঁছেছে এক হাজার কোটি টাকারও কম অর্থ।
ঋণ বিতরণে ধীরগতির পেছনে খেলাপি ঋণ, জামানতের অভাব, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র এবং মামলা প্রত্যাহারের শর্তকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে ব্যাংকারদের দাবি, ঋণ অনুমোদনের আগে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও ঝুঁকি যাচাই করতে হচ্ছে।
এই প্যাকেজের আওতায় ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে। তবে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষি এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য বরাদ্দ তহবিল থেকেও এখন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ হয়নি বলে জানা গেছে।
ঋণ বিতরণে গতি আনতে গত ৬ অক্টোবর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবসায়ীরা ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিল, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য অর্থায়ন এবং দ্রুত ঋণ অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বন্ধ কারখানায় ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিতে চায় না। অন্যদিকে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, নতুন কারখানা গড়ে তোলার চেয়ে বন্ধ কারখানা চালু করা সহজ। তাই প্রণোদনার ঋণ বিতরণ বাড়াতে কিছু শর্ত শিথিল করা প্রয়োজন।
এদিকে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পৃথক নির্দেশনায় মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য থাকায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের আগে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণসংক্রান্ত নিশ্চয়তা দেওয়া এবং আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে বিভিন্ন মামলায় আটকে থাকা মন্দ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ বিতরণ বাড়ানোর পাশাপাশি যোগ্য উদ্যোক্তা নির্বাচন এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ব্যাংক খাতে নতুন সংকট তৈরি না হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ চলছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন যাচাই করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তবে ৬২ হাজার কোটি টাকার এই প্যাকেজের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঋণ বিতরণের গতি কতটা বাড়ে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।