পদত্যাগ করিনি, ফিরব দায়িত্বে বললেন চুয়েট উপাচার্য
পদত্যাগ করিনি, সুস্থ হয়ে দায়িত্বে ফিরব: চুয়েট উপাচার্য
পদত্যাগের খবরকে গুজব দাবি করে সুস্থ হয়ে আবারও দায়িত্বে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় ৩০ ঘণ্টা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার হন তিনি। তবে ক্যাম্পাসে আর ফিরবেন না—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন উপাচার্য।
শেখ শরীফুল আলম বলেন, তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। অসুস্থতার কারণেই তাঁকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে। সুস্থ হয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাঁকে কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। উপাচার্যের ভাষ্য, উদ্ধারের সময় তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না এবং এখনো চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছেন। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা দলীয় উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের ক্ষতি বিবেচনায় দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকালে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভেতরে রেখেই ভবনের ফটকে তালা দেন। এ সময় পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ।
এদিকে উপাচার্যের কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রবেশের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। বুধবারের সাধারণ সভা শেষে সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে। সেগুলো চুরি হয়েছে কি না এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
দীর্ঘদিনের এ আন্দোলনে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি সামনে রেখে অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।