শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার

৫ অক্টোবর ২০২৬ - ১৫:৩৫ অপরাহ্ণ
 0
শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার

শিক্ষকতায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যেন শিক্ষকতাকে কর্মজীবনের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও প্রিয়জন হয়ে উঠতে পারলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের এই সময়ে শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার পাশাপাশি শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। এ জন্য নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন সিলেবাসের বই তুলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থনির্ভর না করে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সুযোগ দিতে হবে। এতে তাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হবে এবং তারা নিজেরাই জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

‘আনন্দময় শিক্ষা’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে এবার প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বই দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই চালু করা হবে।

প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প নয়, বরং শিক্ষকের শক্তি হিসেবে ব্যবহারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি ও বিভিন্ন শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন।

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবনের মাঝপথে ঝরে পড়লেও যেন বেকার না থাকে, সে ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষা খাতকে সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হবে সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার। তবে কর্মমুখী শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনও শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশাকে আরও সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক কর্মরত থাকুন কিংবা অবসর জীবনে—মহান এই পেশার কারণেই তিনি আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়। শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পেতে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষককে শুধু বেতন বা অবসরভাতার জন্য অফিসে ঘুরতে হবে না। যথাসময়ে তাঁর প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে।

এ সময় তিনি বলেন, দেশের শিক্ষকরাই জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।