বিদেশে নারী শ্রমিক বাড়ছে বাড়ছে নির্যাতন-নিরাপত্তার শঙ্কা

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
 0
বিদেশে নারী শ্রমিক বাড়ছে বাড়ছে নির্যাতন-নিরাপত্তার শঙ্কা

নারী শ্রমিকের বিদেশযাত্রা বাড়ছে, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

দেশ থেকে প্রতিবছরই বাড়ছে নারী শ্রমিকের বিদেশযাত্রা। রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও বিদেশে গিয়ে অনেক নারী শ্রমিককে মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানা অনিশ্চয়তা ও অমানবিক পরিস্থিতির।

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মজুরি না দেওয়া, পাসপোর্ট আটকে রাখা, পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা না পাওয়া—এমন অভিযোগ রয়েছে অনেকের। এমনকি নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। আর ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। এ সময় ৪৮টি দেশে ৪২ হাজারের বেশি নারী কর্মী যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ৯০ শতাংশের বেশি গেছেন সৌদি আরব ও জর্ডানে।

তবে বিদেশে গিয়ে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আট বছরে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে।

এ ছাড়া ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য বলছে, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। ২০২১ সাল থেকে পাঁচ বছরে ৪১২ নারী অভিবাসী শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরেছে, যাঁদের মধ্যে ৮৪ জনের মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওকাপের এক গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, দেশে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের ৯৪ শতাংশ নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৪৭ শতাংশ যৌন হয়রানির কথা জানিয়েছেন। ৯৭ শতাংশ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং ৮০ শতাংশ পর্যাপ্ত খাবার পাননি। অনেক নারীকে ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশ যাওয়ার আগে ভাষা, কাজের দক্ষতা, গন্তব্য দেশের আইন এবং চাকরির শর্ত সম্পর্কে নারী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের প্রতারণা বন্ধ, নিয়োগকর্তার তথ্য যাচাই এবং চাকরির লিখিত চুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

নারী শ্রমিকদের সহায়তায় সরকার ১৬১৩৫ নম্বরে টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রেখেছে। বিভিন্ন দেশে আইনি সহায়তা ও সেফ হোমের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে বিদেশে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।