সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আটকা সহস্রাধিক পর্যটক

১১ অক্টোবর ২০২৬ - ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
 0
সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আটকা সহস্রাধিক পর্যটক

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, আটকা সহস্রাধিক পর্যটক
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সেখানে বেড়াতে যাওয়া সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। একই সঙ্গে নতুন করে পর্যটকদের সাজেকে প্রবেশ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এর আগে শনিবার সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা জেএসএসের নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তোলা হয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান মো. ইয়াছিন আরাফাত জানান, শনিবার সরকারি নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন ও মোটরসাইকেল সাজেকে প্রবেশ করেছে। এসব যানবাহনে সহস্রাধিক পর্যটক সেখানে পৌঁছেছেন।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সহসভাপতি চাই থোয়াই চৌধুরী জয় বলেন, বর্তমানে সাজেকে সহস্রাধিক পর্যটক অবস্থান করছেন। অবরোধের কারণে সকালে নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে তাদের ফিরে আসা সম্ভব হয়নি। তবে দুপুরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
নতুন পর্যটকদের সাজেকে প্রবেশের বিষয়ে বাঘাইহাট সেনাজোন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন কটেজ মালিক সমিতির এই নেতা।