অবশেষে অনুষ্ঠিত সেই নৌকাবাইচ তিন দশকের ঐতিহ্যের শেষ আসর!
অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো বিয়ানীবাজারের সেই নৌকাবাইচ
সব জল্পনা-কল্পনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুনাই নদীর নৌকাবাইচ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে নদীর দুই তীরে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জমে ওঠে এই আয়োজন।
বিকেল ৪টায় সুনাই নদীর বুকে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। গানের সুর আর বৈঠার ছন্দে একে অপরকে পেছনে ফেলতে নদীর বুকে ছুটে চলে তিনটি নৌকা।
বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজ প্রায় তিন দশক ধরে এই নৌকাবাইচের আয়োজন করে আসছে। তবে এবার আয়োজনকে ঘিরে শুরুতে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।
নৌকাবাইচের ঘোষণা দেওয়ার পর একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করে। ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারেও আয়োজন বন্ধের দাবি ওঠে। এতে একপর্যায়ে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হলেও আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে না।
সমঝোতার পর পূর্বনির্ধারিত দিনেই অনুষ্ঠিত হয় নৌকাবাইচ। স্থানীয়দের দাবি, আগের কয়েক বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল বেশি। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সিলেট নগর এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই আয়োজন দেখতে নদীর তীরে ভিড় করেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে তিনটি নৌকা অংশ নেয়। নৌকাগুলোর নাম ছিল ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’।
হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতায় কখনো দর্শকদের মধ্যে দেখা যায় উৎকণ্ঠা, আবার কখনো উচ্ছ্বাস। পছন্দের নৌকাকে উৎসাহ দিতে নদীর দুই তীর থেকে চিৎকার করে সমর্থন জানান দর্শকরা।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, পূর্বনির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, নৌকাবাইচ এই এলাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। প্রতি বছর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
তবে মানুষের ব্যাপক ভিড়ের কারণে নদীর দুই তীরের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনসহ বিভিন্ন সমস্যার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানান, উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই এবার নৌকাবাইচ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে না।
প্রায় তিন দশকের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের শেষ আয়োজন হওয়ায় সুনাই নদীর দুই তীরে ছিল উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি বিদায়ের আবেগও।