নেপাল-চীন সীমান্তে বাঁধ বিপর্যয়! বন্যার ভয়ে পাহাড়ে ছুটছেন মানুষ
নেপাল-চীন সীমান্তে প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে নতুন বন্যার আশঙ্কা, পাহাড়ে ছুটছেন মানুষ
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। এতে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু পাহাড়ি এলাকায় সরে যেতে দেখা গেছে।
নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যার দুই দিন পর একটি হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। শুক্রবার রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানান, একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তারা সতর্কবার্তা পেয়েছেন। তবে পানির উচ্চতা ঠিক কতটা বেড়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, নদীর পানির স্তর বাড়তে দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী ৯০ মিনিটের জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। বন্যাকবলিত এলাকায় হেলিকপ্টারে উদ্ধার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
এর আগে নেপাল ও চীন হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। বুধবারের আকস্মিক বন্যায় নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীর গতিপথে বাধ সৃষ্টি করে। এতে সীমান্তের কাছে একটি প্রাকৃতিক হ্রদের সৃষ্টি হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, গিরং সীমান্ত বন্দরের উজানে ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা একটি হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে।
চীনা উদ্ধারকারী দলের ধারণ করা আকাশপথের ভিডিওতে দেখা যায়, বাদামি রঙের বিপুল পরিমাণ পানি একটি অববাহিকায় জমে রয়েছে। হ্রদটির দৃশ্যমান কোনো বহির্গমনপথ ছিল না। পানি আশপাশের ঝোপঝাড় ও গাছপালা ডুবিয়ে ফেলেছে এবং পাথর ও ধ্বংসাবশেষ দিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে।
হ্রদের পানি আরও বেড়ে বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেলে নিচের দিকে ভয়াবহ পানির ঢল নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বিপদ মোকাবিলায় নিচু এলাকার বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে চীনা কর্মী ও যানবাহনও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, হ্রদের পানি হঠাৎ ছড়িয়ে পড়লে বন্যার পাশাপাশি পাহাড়ধস ও তুষারধসের মতো দ্বিতীয় পর্যায়ের দুর্যোগও দেখা দিতে পারে।
এদিকে বুধবার নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় আঘাত হানা আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় এক হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ ধসের পর বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ হিমালয়ের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থার ওপর দিয়ে প্রবল বেগে নেমে এসে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।