যে ধ্বনি শুনে পালিয়ে যায় শয়তান! ‘আল্লাহু আকবার’-এর বিশেষ তাৎপর্য

২৫ আগস্ট ২০২৬ - ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
 0
যে ধ্বনি শুনে পালিয়ে যায় শয়তান! ‘আল্লাহু আকবার’-এর বিশেষ তাৎপর্য

আল্লাহু আকবার’—ছোট্ট এই বাক্যটির মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমার ঘোষণা। ইসলামে তাকবিরের এই ধ্বনি মুমিনের ঈমানি শক্তি বাড়ায় এবং আল্লাহর ওপর ভরসা ও নির্ভরতা আরও দৃঢ় করে।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা বনি ইসরাঈলের ১১১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, তাঁর বড়ত্ব যথাযথভাবে ঘোষণা করতে।

‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আজানের সময় এর প্রভাব। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আজান শুরু হলে শয়তান সেখান থেকে পালিয়ে যায়, যাতে সে আজানের শব্দ শুনতে না পায়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, নামাজের জন্য আজান দেওয়া হলে শয়তান পেছন ফিরে পালাতে থাকে। আজান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে। এরপর নামাজের ইকামত দেওয়া হলে আবারও সে দূরে সরে যায়।

ইকামত শেষ হলে শয়তান আবার ফিরে এসে মানুষের মনে বিভিন্ন ধরনের কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করে। নামাজের মধ্যে সে মানুষের মনে নানা বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়, এমনকি একপর্যায়ে মানুষ কয় রাকাত নামাজ পড়েছে, সেটিও ভুলে যেতে পারে।

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আজানের সময় উচ্চারিত ‘আল্লাহু আকবার’সহ আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা শয়তানের জন্য অত্যন্ত অসহনীয়। তাই আজানের ধ্বনি থেকে দূরে সরে যায় সে।

শুধু শয়তানকে দূরে সরানোই নয়, আজানের ধ্বনি মানুষের মনেও ইবাদতের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। ব্যস্ততা ও গাফিলতি থেকে মানুষকে নামাজের দিকে আহ্বান করে আজান।

‘আল্লাহু আকবার’ মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এই বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে সাহস, প্রশান্তি, তাকওয়া এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতা সৃষ্টি করে।

ফলে ভয় ও হতাশার পরিবর্তে মানুষের হৃদয়ে তৈরি হয় আল্লাহর প্রতি আস্থা। আর শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত হয়ে ওঠে মুমিনের অন্যতম শক্তি।

তাই আজানের সময় মনোযোগ দিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’-এর ধ্বনি শোনা এবং আল্লাহর বড়ত্ব স্মরণ করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।