প্রথম ম্যাচে হোঁচট মানেই শেষ নয়, ইতিহাস গড়ার নতুন সুযোগ ব্রাজিলের সামনে

১৪ জুন ২০২৬ - ১৫:১৭ অপরাহ্ণ
 0
প্রথম ম্যাচে হোঁচট মানেই শেষ নয়, ইতিহাস গড়ার নতুন সুযোগ ব্রাজিলের সামনে

মাঠে গড়িয়েছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলটি হেক্সা মিশন শুরু করেছে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র দিয়ে। প্রথম ম্যাচে জয় না পাওয়ায় সেলেসাও ভক্তদের মনে এখন জমেছে শঙ্কার কালো মেঘ। তবে ফুটবল ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়—এমন শুরু কোনোভাবেই টুর্নামেন্টের শেষ কথা নয়। বরং অতীতে এমন অনেক দল রয়েছে যারা শুরুর ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয়ের মুকুট পরেছে।

ফুটবল ইতিহাসের দিকে তাকালে এমন কয়েকটি উদাহরণ পাওয়া যায়, যা বর্তমান ব্রাজিল দলকে বড় ধরনের স্বস্তি দিতে পারে। শুরুর ধাক্কা সামলে কারা কারা বিশ্বজয় করেছে, চলুন এক নজরে তা দেখে নিই- 

ইংল্যান্ড (১৯৬৬): নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে স্যার আলফ রামসের শিষ্যরা পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বাদ পায়। সেবারই ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপটি ঘরে তোলে থ্রি-লায়ন্সরা।

ইতালি (১৯৮২): বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি ইতালির। ১৯৮২ সালে গ্রুপ পর্বে তারা পোল্যান্ড (0-0), পেরু (১-১) এবং ক্যামেরুন (১-১) তিনটি ম্যাচই ড্র করেছিল। কেবল গোল ব্যবধানে পরের রাউন্ডে ওঠা আজ্জুরিরা এরপর রূপকথার মতো জয় তুলে নিয়ে শিরোপা জয় করে। একে একে আর্জেন্টিনা, দুর্দান্ত ব্রাজিল ও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়।

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খেয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আরও উদাহরণ রয়েছে। যেমন ২০১০ সালে স্পেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড (০-১) এবং সৌদি আরবের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে। স্পেন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আর আর্জেন্টিনা ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে। 

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ এবং স্নায়ুর লড়াইয়ে অনেক বড় দলই হোঁচট খায়। কিন্তু টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য থাকে নকআউট পর্বে নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে নেওয়া। ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। মরক্কোর বিপক্ষে ভুলগুলো শুধরে নিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারলেই ব্রাজিলের হেক্সা মিশন এখনও বাস্তবসম্মত।

প্রথম ম্যাচের ফলাফল নয়, বরং টুর্নামেন্টের দীর্ঘ যাত্রায় দল কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে—সেটিই আসল পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ব্রাজিল তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কেমন দাপট দেখায়।