বিয়ের প্রলোভনে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ, অভিযুক্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ক্রিকেটার তোফায়েল
বিয়ের প্রলোভনে শুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ক্রিকেটার পেস বোলিং অলরাউন্ডার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। এতে একাধিকবার ওই তরুণীকে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৩০ নভেম্বর আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে। ওইদিন অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
মামলার অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি মামলার ছয় মাস আগে হয়েছে বিধায় কোনো আলামত জব্দ করা সম্ভব হয়নি। মামলার বাদী নিজেও কোনো আলামত উপস্থাপন করতে পারেননি। হোটেলে রক্ষিত রেজিস্ট্রার বুকের গেস্ট বুকিং সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশন স্লিপ, তরুণী ও আসামির পাসপোর্ট কপি জব্দ করা হয়। ডিএনএ রিপোর্টে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সার্বিক তদন্তে প্রথম দিনের ঘটনা, হোটেল বুকিং কপি, ধর্ষণের মেডিক্যাল রিপোর্টসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় আসামি তোফায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে রায়হান। বিষয়টি সমাধানে তার পরিবারের কাছে গিয়েও ফল পাইনি। ঘটনার একপর্যায় বিসিবি প্রেসিডেন্টকে লিখিত অভিযোগ দিই। তিনি আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেননি। এভাবে প্রতিনিয়ত পদে পদে অনেকভাবে সম্মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি। আমি আদালতে ন্যায়বিচার চাই।
চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তাকে স্ত্রী পরিচয়ে গুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে আসামি তোফায়েল তাকে ধর্ষণ করেন। তখন তাকে অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিয়ে করবেন বলে তরুণীকে আশ্বস্ত করেন তিনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ওই তরুণী তাকে বিয়ের কথা বললে তোফায়েল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট ওই তরুণী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসামি তোফায়েলকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে এই জামিন শেষ হওয়ার আগেই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি।