নায়িকার গোসলের পানি দিয়ে সাবান! ৮ ডলারের পণ্য বিক্রি ২ লাখ টাকায়
নায়িকার গোসলের পানি দিয়ে তৈরি সাবান, ৮ ডলারের পণ্য বিক্রি ২ লাখ টাকায়!
প্রিয় তারকার প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা কখনো কখনো পৌঁছে যায় অদ্ভুত পর্যায়ে। পছন্দের অভিনেত্রীর ব্যবহৃত পোশাক কিংবা ব্যক্তিগত জিনিস সংগ্রহ করতে অনেকেই খরচ করেন বিপুল অর্থ। তবে কোনো অভিনেত্রীর গোসলের পানি দিয়ে সাবান তৈরি করে বিক্রির ঘটনা শুনলে অবাক হতে হয়। হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনিকে ঘিরে ২০২৫ সালে ঘটেছিল এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। মাত্র ৮ ডলারে বিক্রি হওয়া সেই সাবানের দাম পরে পুনর্বিক্রির বাজারে উঠেছিল প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।
ঘটনার শুরু ২০২৪ সালে। পুরুষদের পরিচর্যাপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড. স্কোয়াচের একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নেন মার্কিন অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। বিজ্ঞাপনে তাকে বাথটাবে বসে প্রতিষ্ঠানটির বডি ওয়াশের প্রচার করতে দেখা যায়। সেখানে তার চরিত্রের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বডি ওয়াশ জিনি’।
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় নানা আলোচনা। অনেকেই মজা করে মন্তব্য করতে থাকেন, তারা সিডনির গোসলের পানি কিনতে চান। প্রথমে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিছক রসিকতা মনে হলেও পরে সেই আলোচনাকেই ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৫ সালের মে মাসে ঘোষণা আসে, সিডনি সুইনির গোসলের পানির সামান্য অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হবে বিশেষ সাবান। এর নাম দেওয়া হয় ‘সিডনিস বাথওয়াটার ব্লিস’। অভিনেত্রী নিজেও জানান, বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময় বাথটাবে ব্যবহৃত পানির একটি অংশ সংগ্রহ করে সাবান তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
সাবানটি শুধু নামের কারণেই ব্যতিক্রমী ছিল না, এর উপাদান ও সুগন্ধেও রাখা হয়েছিল বিশেষত্ব। এতে গোসলের পানির পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় এক্সফোলিয়েটিং উপাদান ও পাইন বার্ক এক্সট্র্যাক্ট। পাইন, ডগলাস ফার ও মাটির সোঁদা ঘ্রাণের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছিল এর সুগন্ধ। সিডনির বেড়ে ওঠার অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রকৃতির আবহ ফুটিয়ে তোলাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
২০২৫ সালের ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাবানটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রতিটি সাবানের দাম রাখা হয়েছিল মাত্র ৮ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক হাজার টাকা। তবে সীমিত সংস্করণের এই সাবান তৈরি করা হয়েছিল মাত্র পাঁচ হাজারটি। বাজারে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সব সাবান বিক্রি হয়ে যায়।
এরপরই শুরু হয় নতুন আলোচনা। সীমিত সংখ্যায় বাজারে আসা সাবানটি সংগ্রহ করতে না পেরে অনেকেই পুনর্বিক্রির বাজারে খোঁজ করতে থাকেন। সেখানে একটি সাবানের দাম বেড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অর্থাৎ মূল বিক্রয়মূল্যের তুলনায় কয়েক শ গুণ বেশি দামে বিক্রির ঘটনা ঘটে।
মজার বিষয় হলো, সাবান তৈরির এই অভিনব ধারণাটি সিডনি সুইনি নিজেই দিয়েছিলেন বলে পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে জানান তিনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মজার মন্তব্য থেকেই তৈরি হয় আলোচিত এই বিপণন উদ্যোগ।
কিন্তু একজন অভিনেত্রীর গোসলের পানি দিয়ে তৈরি সাবান কেনার জন্য ভক্তরা এত টাকা খরচ করতে আগ্রহী হলেন? এর পেছনে রয়েছে মানুষের তারকাকেন্দ্রিক মানসিকতার একটি দিক।
মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের সম্পর্ককে বলা হয় ‘প্যারাসোশ্যাল রিলেশনশিপ’। অর্থাৎ কোনো তারকা বা পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দর্শকের একতরফা মানসিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়া। ভক্তরা নিয়মিত কোনো তারকার অভিনয়, সাক্ষাৎকার কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় অনুসরণ করতে করতে তার প্রতি একধরনের ব্যক্তিগত টান অনুভব করেন। যদিও বাস্তবে সেই তারকা ভক্তকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।
এমন অনুভূতি থেকেই কেউ কেউ প্রিয় তারকার ব্যবহৃত জিনিস সংগ্রহ করতে আগ্রহী হন। তাদের কাছে এসব পণ্য কেবল সাধারণ কোনো বস্তু নয়, বরং প্রিয় তারকার সঙ্গে প্রতীকীভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার একটি মাধ্যম।
তবে এই সাবান কেনার পেছনে সবার উদ্দেশ্য একই ছিল, এমনটা বলার সুযোগ নেই। কেউ কিনেছেন কৌতূহল থেকে, কেউ মজার বিষয় হিসেবে, আবার কেউ সীমিত সংস্করণের একটি ব্যতিক্রমী পণ্য সংগ্রহের আগ্রহে।
সব মিলিয়ে সিডনি সুইনির গোসলের পানি দিয়ে তৈরি সাবানের ঘটনাটি তারকাদের জনপ্রিয়তাকে বিপণনে ব্যবহারের এক অভিনব উদাহরণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের একটি মজার মন্তব্যও কীভাবে বড় ধরনের ব্যবসায়িক প্রচারণায় রূপ নিতে পারে। যেখানে মাত্র ৮ ডলারের একটি সাবান পুনর্বিক্রির বাজারে প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম পেতে পারে।