১৫ বছর পর খুলল মসজিদ ফিরল ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রাণ

৩ নভেম্বর ২০২৬ - ০১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
 0
১৫ বছর পর খুলল মসজিদ ফিরল ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রাণ

১৫ বছর পর খুলল দামেস্কের ঐতিহাসিক মসজিদ

দীর্ঘ ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ঐতিহাসিক সুলাইমানিয়া তাকিয়া মসজিদ। সংস্কার ও পুনর্বাসনকাজ শেষ হওয়ার পর গত শনিবার মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

মসজিদটির উদ্বোধন করেন সিরিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ আবুল খাইর শুকরি। এ সময় দেশটির অর্থ, সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী, দামেস্কের গভর্নরসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং দামেস্কের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে মসজিদটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ আবুল খাইর শুকরি বলেন, সুলাইমানিয়া তাকিয়া কেবল একটি মসজিদ নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক নিদর্শন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্র। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি নিয়ে পুরো শাম অঞ্চল গর্বিত।

তিনি আরও বলেন, দামেস্কের ওয়াকফ ব্যবস্থা প্রায় ৫০০ বছর ধরে সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠা, অসহায় মানুষের খাবারের ব্যবস্থা এবং হজযাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছে। মসজিদগুলোর ধর্মীয় শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রম সচল রাখা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়াও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী মুহাম্মদ ইয়াসিন আস-সালেহ বলেন, সুলাইমানিয়া তাকিয়া মসজিদ পুনরায় চালু করা সিরিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পুনরুদ্ধার ও পুনর্জাগরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে দামেস্কসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।

ঐতিহাসিক সুলাইমানিয়া তাকিয়া কমপ্লেক্সটি ষোড়শ শতাব্দীতে উসমানীয় সুলতান সুলায়মান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের শাসনামলে নির্মিত হয়। বিখ্যাত স্থপতি মিমার সিনানের নকশায় তৈরি এই কমপ্লেক্সে রয়েছে মসজিদ, মাদরাসা, হজযাত্রীদের জন্য অতিথিশালা এবং লঙ্গরখানা।

দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটি দামেস্কের ধর্মীয় শিক্ষা ও দাতব্য কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে সংস্কারকাজের আগে টানা ১৫ বছর বন্ধ ছিল ঐতিহাসিক এই মসজিদটি। পুনরায় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্থাপনাটির ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নতুন করে চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছে।