মুখোশের আড়ালে আসল চেহারা!

২৪ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
 0
মুখোশের আড়ালে  আসল চেহারা!

কোনটা মুখ আর কোনটা মুখোশ!

বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও মৌলিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে আসছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে জাতীয়তাবাদের পাশাপাশি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার যে মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন ও অবস্থান নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছিল, তা শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না—এমনটাই মনে করেন লেখক।

লেখাটিতে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়ন ও সহিংসতার কারণে ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তবে অভ্যুত্থানের পেছনে পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। লেখকের মতে, এই অভ্যুত্থানকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার পরিবর্তে মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগের প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ নিয়েও লেখায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন, বিপুলসংখ্যক সুপারিশ তৈরি এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ না করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল গঠন এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের একাংশের জোটের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। লেখকের বিশ্লেষণে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং সংবিধান পুনর্লিখনের বিতর্ক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এরপর লেখাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকে মোড় নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি, বিভিন্ন দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারের বক্তব্য এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন লেখক। তাঁর মতে, শক্তি প্রদর্শন ও হুমকির মাধ্যমে ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি; বরং সংঘাতের পরিণতি এবং যুদ্ধের বিরোধিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। লেখায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার দাবিও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এ ধরনের পরিসংখ্যানের মূল্যায়নে নির্দিষ্ট জরিপ ও সময়কাল বিবেচনা করা জরুরি।

সবশেষে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, গণতন্ত্র ও সভ্যতার অগ্রগতির দাবি করা যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের প্রতি এখনো উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন কীভাবে বজায় রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও সংস্কার বিতর্ক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার রাজনীতি—পুরো লেখায় মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য, আদর্শিক অবস্থান এবং নেতাদের প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে তাঁদের বাস্তব কর্মকাণ্ডের ব্যবধান তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।