দুর্নীতি বন্ধে সরকারি বদলিতে আসছে লটারি পদ্ধতি?
দুর্নীতি প্রতিরোধে লটারি পদ্ধতি হতে পারে কার্যকর উদ্যোগ
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন ঘিরে অনিয়ম এবং তদবির বাণিজ্য বন্ধে লটারি পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি হতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কর্মকর্তা ঘুষ দিয়ে লাভজনক পদে দায়িত্ব পেলে সেই অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এ সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী চক্র। ফলে দুর্নীতি প্রতিরোধে বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে এই অনিয়ম বন্ধে লটারি পদ্ধতি একটি বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে। সম্প্রতি সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলিতে লটারি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নেও এ পদ্ধতি অনুসরণের কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বদলি বাণিজ্য কমানো এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
শুধু এসব দপ্তরেই নয়, সরকারি ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক পদায়নের ক্ষেত্রেও যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে লটারি পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, কর্মস্থলের প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ দক্ষতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
লটারি পদ্ধতি চালু হলেই দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এর পাশাপাশি নিয়োগ ও পদায়নের নিয়ম প্রকাশ, স্বাধীন তদারকি, অভিযোগ তদন্ত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, সরকারি চাকরিতে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য বন্ধে যোগ্যতাভিত্তিক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার সঙ্গে লটারি পদ্ধতির সমন্বয় দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে।