সন্তানকে সময় দিন বিপথে যাওয়ার আগেই আগলে রাখুন
সন্তানকে সময় দিন, বিপথগামী হওয়ার আগেই আগলে রাখুন
সন্তানই বাবা-মায়ের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু বর্তমান সময়ে পারিবারিক অবহেলা, ভুল বন্ধুত্ব, অনিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা ও নানা সামাজিক প্রভাবের কারণে কিশোরদের একটি অংশ ধীরে ধীরে অপরাধের দিকে জড়িয়ে পড়ছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে কিশোর অপরাধের ভয়াবহ বাস্তবতা।
কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাই, মারামারি, ইভ টিজিং কিংবা অনলাইন আসক্তি—এসব থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান বা শাস্তি যথেষ্ট নয়। অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে পরিবারকে।
একজন কিশোর হঠাৎ করে বিপথগামী হয় না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক দূরত্ব, পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, ভুল বন্ধুত্ব এবং সন্তানের মানসিক অবস্থার প্রতি নজর না রাখার মতো নানা কারণ। তাই সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এবং কী ধরনের পরিবেশে সময় কাটাচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি।
শুধু ভালো স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে এবং নিয়মিত ফি পরিশোধ করলেই সন্তানের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো, তার কথা শোনা, ভালোবাসা দেওয়া এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াই একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ইসলামেও সন্তানের সঠিক লালন-পালন ও চরিত্র গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন সৎ ও চরিত্রবান সন্তান বাবা-মায়ের জন্য দুনিয়ায় শান্তির কারণ হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর পরও দোয়া ও নেক আমলের মাধ্যমে তাদের উপকার করতে পারে।
তাই ঘরবাড়ি, ব্যবসা কিংবা ক্যারিয়ারের পেছনে যতটা সময় ও মনোযোগ দেওয়া হয়, সন্তানের পেছনেও দিতে হবে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব। কারণ একজন ভালো মানুষ, সুনাগরিক ও নৈতিক সন্তান গড়ে তোলাই হতে পারে বাবা-মায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।