কেপ ভার্দের হয়ে মেসিকে থামাবে ছেলে, বিশ্বাস মায়ের

২ জুলাই ২০২৬ - ১৬:১১ অপরাহ্ণ
 0
কেপ ভার্দের হয়ে মেসিকে থামাবে ছেলে, বিশ্বাস মায়ের

বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিকে থামানো যে কোনো ডিফেন্ডারের কাছেই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। নকআউট পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তাই কেপ ভার্দের রক্ষণভাগকে ঘিরেই আলোচনাটা বেশি। তবে দলের অন্যতম ভরসা সেন্টার-ব্যাক রবার্তো পিকে লোপেসকে নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নন তার মা জুডি লোপেস। বরং তার বিশ্বাস, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচে মেসির বিপক্ষে খেলতে নামার সুযোগটাই ছেলের কাছে হবে দারুণ রোমাঞ্চের। বিবিসি

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলতে এসে ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে কেপ ভার্দে। কঠিন গ্রুপে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে লড়াই করে অপরাজিত থেকেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের পর গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ ৩২-এ ওঠা কেপ ভার্দের সামনে এবার আরও বড় পরীক্ষা। মায়ামিতে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আর সেই দলের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি। টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যেই ছয় গোল করা এই ফরোয়ার্ডের বিপক্ষে লোপেসের লড়াই নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ফুটবলপ্রেমীদের।

জুডি লোপেস অবশ্য মনে করেন, এই ম্যাচকে কোনো চাপ হিসেবে নেবেন না তার ছেলে। বরং বড় মঞ্চে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগটিই উপভোগ করবেন তিনি।

বিবিসি স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জুডি বলেন, মেসির বিপক্ষে খেলতে পারবে ভেবেই পিকো রোমাঞ্চিত হবে। সে সব সময়ই খুব শান্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং চাপের মুহূর্তে নিজের সেরাটা দিতে পারে। ম্যাচের চারপাশে যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক না কেন, সেগুলো উপেক্ষা করে নিজের খেলায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে।

জুডির বিশ্বাস, দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাই ছেলেকে এমন বড় ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছে। তার ভাষায়, অনেকেই বুঝতে পারেন না লোপেস কতটা অভিজ্ঞ ফুটবলার। তিনি দুটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে খেলেছেন, পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ক্লাব শ্যামরক রোভার্সে টানা এক দশক কাটিয়েছেন। তাই এই ম্যাচে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। বরং চ্যালেঞ্জটিই উপভোগ করবেন এবং ভালো কিছু করার চেষ্টা করবেন।

কেপ ভার্দের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল তাদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ। গ্রুপ পর্বে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে দলটি। ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্সে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্র করেছে তারা। সেই রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন লোপেসও। তবে এবার তাদের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ, আর্জেন্টিনাও গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি গোল হজম করে নিজেদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে।

জুডি স্বীকার করেন, কখনোই কল্পনা করেননি তার ছেলে একদিন বিশ্বকাপে মেসির বিপক্ষে খেলবে। সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এখনও সবকিছু অবিশ্বাস্য মনে হয়। যেন বাইরে থেকে পুরো ঘটনাটা দেখছেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিপক্ষে নিজের ছেলেকে মাঠে নামতে দেখা তার কাছে গর্বের এবং একই সঙ্গে অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা।

হাস্যরসের সুরে তিনি আরও বলেন, মেসিও হয়তো ম্যাচের আগে পিকোর খেলা বিশ্লেষণ করছেন এবং ভাবছেন কীভাবে এই ‘রক্ষণপ্রাচীর’ ভাঙা যায়। তার এই মন্তব্যে যেমন ছেলের প্রতি আস্থার প্রকাশ ছিল, তেমনি ছিল আসন্ন লড়াই নিয়ে আত্মবিশ্বাসও।

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের এই যাত্রা যে অনেকের প্রত্যাশারও বাইরে ছিল, সেটিও স্বীকার করেছেন জুডি। তার ভাষায়, স্পেন ও উরুগুয়ের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের থাকা গ্রুপ থেকে দলটি নকআউট পর্বে উঠতে পারবে এমনটা তারা নিজেরাও ভাবেননি। তাই শুরুতে শুধু গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন। ডাবলিনের একটি স্কুলে সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত জুডি মাঝখানে কাজে ফিরেছিলেন। এখন আবার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছেন ছেলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি দেখতে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে স্কুলের শিক্ষার্থীরা পিকোর জন্য শুভকামনা জানিয়ে একটি পোস্টার তৈরি করে দিয়েছিল। সেই পোস্টার তিনি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কেপ ভার্দের পুরো দল তাতে স্বাক্ষর করেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে সেটি স্কুলের প্রবেশপথে টাঙিয়ে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

আর্জেন্টিনা যে ম্যাচটির পরিষ্কার ফেবারিট, তা মানতে দ্বিধা নেই জুডির। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই বলেই বিশ্বাস করেন তিনি। তার মতে, কেপ ভার্দে এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রিয় আন্ডারডগ দলগুলোর একটি। ৯০ মিনিটের ম্যাচে ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনই খেলে, তাই যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি আশা করছেন, কেপ ভার্দের রূপকথার বিশ্বকাপ অভিযান আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।