ইরানকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্ভব নয়: আরাগচি
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আলোচনা চলার মধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান বলছে, দেশটিকে বাদ দিয়ে বা উপেক্ষা করে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র হয় তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সদিচ্ছা হারিয়েছে, নয়তো তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে ওঠা নতুন নিরাপত্তা কাঠামোয় সব দেশের অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘সমষ্টিগত সহযোগিতার’ ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।
এক বিবৃতিতে আরাগচি বলেন, ‘ইরানকে বাদ দিয়ে বা উপেক্ষা করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলের দেশগুলো ধীরে ধীরে এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে যে টেকসই নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা কেবল সহযোগিতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানসহ সব দেশের অভিন্ন স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়ার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।’
এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল দাহিয়ায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা আবারও প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয় তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সদিচ্ছা রাখে না, নয়তো তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি সরকারকে সবুজ সংকেত দিয়ে কোনও ছাড় আদায় করা যাবে না। ‘ব্যাড কপ, গুড কপ’ খেলা এখন পুরোনো হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আপনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সদিচ্ছা ও সক্ষমতা না থাকে, তাহলে এই পথ অব্যাহত রাখার কথা বলার কোনও সুযোগ নেই।’
আল জাজিরা বলছে, বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে একটি ভবনে ইসরায়েলি হামলার পর ঘালিবাফ এই মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি ওই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।