বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ৪ হাজার ডলারের নিচে নামার শঙ্কা
স্বর্ণের দামে বড় পতন
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে দাঁড়ায়। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দরপতনের মুখে রয়েছে স্বর্ণ।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। তবে মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য আপাতত সুদের হারে পরিবর্তন আনা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচক প্রকাশের কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় ফেডারেল রিজার্ভ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। এতে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও আরও জোরালো হতে পারে। বাজারের লেনদেনকারীরা ইতোমধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে হিসাব করছেন।
সাধারণত সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে স্বর্ণের দামে চাপ পড়ে। কারণ, স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়, ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমতে পারে।
এদিকে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার বা তার বেশি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণে বাধ্য করতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫২ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০২ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমেছে।