ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন জেনে নিন সময়সূচি ও ভাড়া
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চালু হলো মহানগর এক্সপ্রেস, বাড়ল ট্রেনের সংখ্যা
ঢাকা থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজারে যাতায়াত আরও সহজ করতে নতুন ট্রেন চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন জোড়ায়। নতুন এই সেবার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার অতিরিক্ত যাত্রী রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেসের বর্ধিত রুটে চলাচল উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এত দিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করত। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হওয়ায় এখন এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে তিন জোড়া হলো। এতে শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামের যাত্রীদের নয়, নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীদেরও সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে আটটায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পরদিন সকাল ছয়টায় ট্রেনটি কক্সবাজার পৌঁছাবে। পথে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছে রাত তিনটায় আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করবে ট্রেনটি।
ফিরতি পথে প্রতিদিন সকাল নয়টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে মহানগর এক্সপ্রেস। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ট্রেনটি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দুই পথে যাত্রার নির্ধারিত সময় নয় ঘণ্টা ৩০ মিনিট। তবে ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে মহানগর এক্সপ্রেস বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে থামবে। দুই প্রান্তের স্টেশনসহ মোট ১৪টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে ট্রেনটি। নতুন রুট চালুর কারণে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ৪৬৭ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার পথে চলাচল করবে ট্রেনটি।
ভাড়ার ক্ষেত্রে আগের নির্ধারিত হারই বহাল থাকছে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া শুরু ৬৮৫ টাকা থেকে। আর এসি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ভাড়া ১ হাজার ৫৭০ টাকা। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা অথবা রেলস্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। ট্রেনটির রেকের রক্ষণাবেক্ষণ, পানি সরবরাহ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হবে কক্সবাজারে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, পর্যটননগরী কক্সবাজারে ট্রেনে যাতায়াতের বাড়তি চাহিদা বিবেচনা করেই মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে আন্তনগর রেলসেবা বৃদ্ধির যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। নতুন ট্রেন চালুর ফলে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীরাও সহজে পর্যটননগরী কক্সবাজারে যাতায়াত করতে পারবেন।