পরিবার থেকেই স্বাস্থ্যসেবা বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ
 0
পরিবার থেকেই স্বাস্থ্যসেবা বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

পরিবার ও কমিউনিটি থেকেই স্বাস্থ্যসেবার সূচনা: প্রধানমন্ত্রী

পরিবার ও কমিউনিটি থেকেই স্বাস্থ্যসেবার সূচনা হবে—এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইড ইভেন্টে তিনি বলেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’—এই নীতিকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে নারী ও শিশুদের দেওয়া হবে বিশেষ অগ্রাধিকার।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সুইডেন ও ইউএনএফপিএ-এর অংশীদারত্বে বাংলাদেশ এ আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিতে নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ৮০ শতাংশই নারী হবেন। এসব স্বাস্থ্যকর্মী পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গর্ভধারণের আগের সময় থেকে শুরু করে প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত নারীর পাশে থাকবেন পেশাদার মিডওয়াইফরা।

সারা দেশে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। বর্তমানে দেশে ১১ হাজারের বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ রয়েছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিডওয়াইফরা গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, জটিলতা শনাক্তকরণ, মা ও নবজাতকের যত্ন, বুকের দুধ খাওয়ানো এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উচ্চতর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

ইউএনএফপিএ-এর সহযোগিতায় দেশের ২২টি জেলায় মিডওয়াইফ-নেতৃত্বাধীন সেবা সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দক্ষ মিডওয়াইফরা এক লাখ ৫৪ হাজারের বেশি প্রসবে সহায়তা করেছেন বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আওতায় প্রত্যেক নাগরিকের জন্য হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

নারীর স্বাস্থ্যসেবা শুধু গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। কিশোরীদের স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রত্যেক নারী যেন নিজের বাড়ির কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ পেশাদার মিডওয়াইফের সেবা পান—এটাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী মিডওয়াইফ নিয়োগ, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।