জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ যা বললেন তারেক রহমান

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
 0
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ যা বললেন তারেক রহমান

জাতিসংঘে ভাষণে ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা ও জলবায়ু সংকট নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টা ১৮ মিনিটে বাংলায় শুরু করা এই ভাষণে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্বশান্তি, গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনকেই সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।

ভাষণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়েও সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সুবিধা যেন কেবল কিছু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে তরুণরা নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।