প্রতারণার মামলায় ফুডপান্ডা এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
 0
প্রতারণার মামলায় ফুডপান্ডা এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

প্রতারণার মামলায় ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রতারণা, জালিয়াতি এবং প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। পরোয়ানাভুক্ত অন্যরা হলেন ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল হক।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির গত বছরের ৩ জুলাই মামলা দুটি করেন। ২০২২ সালের জুন থেকে ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টে ফলমূল ও সবজি সরবরাহ করছিল তার প্রতিষ্ঠান।

বাদীর অভিযোগ, শুরুতে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে তার পাওনা আটকে রাখা হয়। এমনকি এক লাখ টাকার পণ্যের অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংকে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত জমা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ বা আরটিভি স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানোর মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, ঘটনাটি মূলত একটি ব্যবসায়িক বিরোধ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফুডপান্ডার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হয়রানি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, একই থানার পুলিশ চারটি মামলার তদন্ত করেছে এবং পরবর্তী দুটি তদন্ত প্রতিবেদনে কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের সূত্র পাওয়া যায়নি। বরং অভিযোগকারী পক্ষের কাছ থেকেই প্রতিষ্ঠানের পাওনা রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে দাবি তাদের।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিরোধের সঠিক নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছে।