রংপুরে চার খুন: এজাহারে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য!
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রোববার (২৪ আগস্ট) রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন।
তবে মামলার এজাহারে গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আসামি করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।
এজাহারে ঘটনার যেভাবে বর্ণনা
এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতার মুঠোফোন থেকে তার বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। এরপর গণপতি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে পূজা তার বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। কিন্তু ফোনে কোনো কথা হয়নি। এরপর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা আবার বোনকে ফোন করলে পরিবারের চার সদস্যের মুঠোফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ হওয়ায় তিনি স্বামী বিপুল আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে ওই দিন রাত সোয়া ৯টার দিকে বোনের বাড়িতে যান।
বাড়িতে গিয়ে তারা দেখেন, চারপাশ অন্ধকার এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। পরে পাশের প্রতিবেশী দেবুর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানান তারা।
এরপর পূজা প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে বোনের বাড়ির ছাদে যান। সেখান থেকে জানালার লক ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতরে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। একই সঙ্গে ভেতর থেকে পচা গন্ধও বের হচ্ছিল।
এলোমেলো আসবাবপত্র, হত্যার পর সাজানোর সন্দেহ
এজাহারে বলা হয়েছে, ২১ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিট থেকে ২২ আগস্ট সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা যোগসাজশ করে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেন।
বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে আলমারি, শোকেস, আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। এ কারণে হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্য কোনো ঘটনার মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় গিয়ে মামলা করেন গোপীনাথ চক্রবর্তী।
আদালতে দুই তরুণের স্বীকারোক্তি
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২-এ তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে দুজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দিতে তারা কী বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।