দুই ম্যাচে ব্রাজিলের গোল ৪, মেসির একারই ৫
দুই ম্যাচে ব্রাজিলের গোল ৪, আর মেসির একারই ৫। পরিসংখ্যানটাই যেন বলে দিচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির দাপট কতটা ভয়ঙ্কর। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতেই পেনাল্টি মিস করেও শেষ পর্যন্ত নিজের ছন্দে ফিরে আসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জোড়া গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে জেতান তিনি, নিশ্চিত করেন আরও একটি দুর্দান্ত জয়।
গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচেই মেসি গড়েছেন একাধিক ইতিহাস। ম্যাচের প্রথম গোলের পরই তিনি ছুঁয়ে ফেলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। এরপর ইনজুরি সময়ে আরেকটি গোল করে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেন তিনি।
এর আগে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি, যা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। সেই ম্যাচের পর থেকেই গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও জোড়া গোল করে চলতি আসরে এখন পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫–এ, যা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ।
আগ্রহের বিষয় হলো, মেসির একার গোলসংখ্যার কাছাকাছিও নেই এই বিশ্বকাপে অংশ নেয়া অনেক দল। আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট হু স্কোর জানায়, এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৪৮ দলের মধ্যে ৪০টি দল এখনো ৫ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি।
এদিকে আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের অবস্থাও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। দুই ম্যাচে পুরো দল মিলিয়ে তাদের গোল ৪টি, যেখানে একাই ৫ গোল করেছেন মেসি। একইভাবে বিশ্বকাপের আরেক ফেভারিট স্পেনের চেয়েও এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন তারকা। স্পেনের গোলসংখ্যাও ৪, যা তারা এক ম্যাচেই করেছিল সৌদি আরবের বিপক্ষে।
মেসির এই রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্সের দিনে নকআউট পর্বও নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে শীর্ষে থেকেই শেষ ৩২-এ নাম লেখাবে তারা। সেখান থেকে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকতে পারে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে কিংবা সৌদি আরব।
গ্রুপ ‘এইচ’-এর এই চার দলের মধ্যে যারা দ্বিতীয় হয়ে পরবর্তী পর্বে উঠবে, তারাই নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে।