মেসি-রোনালদো বিতর্কে এমবাপ্পে: ‘দুজনই অসাধারণ, তবে একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা’
কে সেরা-লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো? এই প্রশ্নে বছরের পর বছর ধরে ফুটবল বিশ্বে বিতর্ক চলছে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে টেলিভিশন স্টুডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্টেডিয়ামের গ্যালারি, সব জায়গাতেই এই আলোচনা সমানভাবে জমে ওঠে।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মতো জটিল পরিস্থিতি এড়িয়ে গেলেন ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসির সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছেন এমবাপ্পে। রোনালদো তার আদর্শ। একসঙ্গে খেলার সুযোগ হয়নি। তবে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছেন। দুজনকে নিয়ে এমবাপ্পে খোলামেলা মূল্যায়ন করেছেন এক সাক্ষাৎকারে,
‘ক্রিশ্চিয়ানো আমার আইডল। তবে আমি লিওর সঙ্গেও খেলেছি এবং দুজনের বিপক্ষেও খেলেছি। আমার মতে, তারা আসলে একেবারেই ভিন্ন ধরনের ফুটবলার। তারা একই রকম নয়।’
মেসি-রোনালদোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফরাসি তারকা আরও বলেন, ‘আমি মনে করি তাদের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলের জন্য ভালো ছিল। এটি খেলাটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে এবং নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যদি কেউ বলে রোনালদোর কোনো প্রতিভা নেই, কিংবা মেসি কঠোর পরিশ্রম করেননি, তাহলে বুঝতে হবে সে কখনও জীবনে প্রতিদিন অনুশীলন করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেনি।’
তার মতে, ফুটবলের এই দুই কিংবদন্তির সাফল্যের পেছনে শুধু সহজাত প্রতিভা নয়, অসাধারণ পরিশ্রম ও আত্মনিবেদনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ফরাসি তারকা ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলছেন। শৈশব থেকে এই ক্লাবে খেলার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ক্লাবকে ঘিরে তার উচ্ছ্বাস কন্ঠে টের পাওয়া গেল, ‘এটা ঠিক যেমনটা আমি কল্পনা করেছিলাম। অনেক মানুষের কাছে, বার্সার সমর্থকদের বাদ দিলে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব। এই ক্লাবের মাহাত্ম্য আপনাকে আবেগাপ্লুত করে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ এমন একটি ক্লাব, যা মহত্ত্বের প্রতীক। বার্সেলোনা ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের ছাপ রেখেছে, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ বিশ্বের সবচেয়ে প্রিয় ক্লাব। আমি এখানে খেলতে পেরে গর্বিত ও আনন্দিত। আমি রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে নিজের নাম লিখতে চাই, কারণ বিশ্বের সেরা ক্লাবের ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারলে আপনি ফুটবল ইতিহাসেও নিজের স্থান নিশ্চিত করতে পারবেন।’
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সেরা মুহূর্তকে স্মরণ করে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘যখন আমি ম্যানচেস্টারের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলাম। সেটাই ছিল পুরো শক্তিতে খেলার অনুভূতি। এটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট ম্যাচ এবং আমি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হ্যাটট্রিক করেছিলাম।’
এই বিশ্বকাপে নেইমার ও ক্রিস্টিয়ানোর বিপক্ষে খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়ে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে আমি ক্রিশ্চিয়ানোর বিপক্ষে খেলতে চাই, কারণ সম্ভবত সেটাই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। অথবা নেইমারের বিপক্ষে। এই দুজনের একজনের বিপক্ষে খেলতে চাই।’