তাহসিফের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড় জুনিয়র বন্ধু দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ

৩০ অক্টোবর ২০২৬ - ০৭:০৪ পূর্বাহ্ণ
 0
তাহসিফের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড় জুনিয়র বন্ধু দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ

তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ, যা জানাল পিবিআই

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক সামরিক পাইলট ও কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তার জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সংস্থাটি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে শাহরিয়ার দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দুজনের একসঙ্গে অবস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্ত সংস্থা।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের নজরে এসেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ। সেখানে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন তাহসিফ। পরে দুজনকে হাত মেলাতেও দেখা যায়। সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফের সঙ্গে থাকা ওই ব্যক্তিকে তার পরিবারের সদস্যরা জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন। সাক্ষাতের পর দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরিবারের দাবি, সেদিন দীপের ডাকেই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরে দীপ তাদের জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দেওয়ায় দুজন একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেল মেরামতের পর তারা বাসায় ফিরে খাবার খান এবং পরে সেখান থেকে চলে যান। তবে এরপর কী ঘটেছিল, কীভাবে তাহসিফ নিখোঁজ হলেন এবং তার মৃত্যুর সঙ্গে কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

এদিকে গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে তাকে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের দাবি, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ২৭ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। মাকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও কেনাকাটা করেন। সন্ধ্যার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তিনি।

তাহসিফের বাবা আরও জানান, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ছেলের ফোন থেকে ‘আম্মু আমি আসছি’ লেখা একটি বার্তা পেয়েছিলেন তারা। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ভোর সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের মাধ্যমে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। তার দাবি, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় আগে কখনো যাননি তাহসিফ।

তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়েও কথা বলেছেন তার বাবা। তিনি জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাহসিফকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওই সময় আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

সব মিলিয়ে তাহসিফের মৃত্যুকে ঘিরে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে জুনিয়র বন্ধু দীপের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকা এবং গভীর রাতে পাঠানো শেষ বার্তা—সবকিছুই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে তাহসিফের মৃত্যু হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।