১১ বোয়িং কেনার পর এয়ারবাস নিয়েও ভাবছে বাংলাদেশ
ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে: মাহ্দী আমিন
বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রান্সের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকসহ দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন বৈঠক হয়েছে। গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন জানান, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষায়, কূটনীতিতে সব দরজা ও বিকল্প খোলা রাখতে হয়, আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।
চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিন কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন।