ইমদাদুল হক মিলনের জন্মদিনে লালমনিরহাটে ‘মিলন মোহনা’

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১২:১৬ অপরাহ্ণ
 0
ইমদাদুল হক মিলনের জন্মদিনে লালমনিরহাটে ‘মিলন মোহনা’

কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের জন্মদিনে লালমনিরহাটে ‘মিলন মোহনা’

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলনের জন্মদিন উপলক্ষে লালমনিরহাটে ‘মিলন মোহনা’ শীর্ষক সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগারে বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। এতে কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী ও শিশু-কিশোররা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলনের দীর্ঘ সাহিত্যজীবন, সৃষ্টিশীলতা, জীবনদর্শন, মানবিক মূল্যবোধ এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন কবি-সাহিত্যিকরা।

বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা কমিটির সভাপতি মো. জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কবি ও সাহিত্যিক নাজিরা পারভীন টপি, কবি রায়হান, কবি জাহাঙ্গীর আলম, কবি ভক্ত কুমার রায়, কবি ও শিল্পী নিরাময় কুমার রায়, কবি জান্নাতুল মাওয়াসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কবি-সাহিত্যিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলনের বহুলপঠিত গ্রন্থ ‘তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম’ নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেন কবি ও সাহিত্যিক নাজিরা পারভীন টপি। তিনি বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের সাহিত্য মূলত মানুষের জীবনের গল্প। তাঁর লেখায় প্রেম, মায়া, বিচ্ছেদ, প্রকৃতি, মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও জীবনসংগ্রাম সহজ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় উঠে এসেছে।

বক্তারা বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের গল্প ও উপন্যাসে গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষের জীবন থেকে শুরু করে নগরজীবনের নানা টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো আমাদের চারপাশের পরিচিত মানুষ এবং তাদের আনন্দ-বেদনা, আশা-হতাশা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।

বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা কমিটির সভাপতি মো. জামাল হোসেন বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের লেখায় সমাজ, দেশ ও দেশপ্রেমের মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে তাঁর সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও বলেন, লেখকের জন্মদিন শুধু কেক কেটে উদযাপনের দিন নয়; তাঁর সৃষ্টি, দর্শন ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার ভাবনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও সুযোগ।

সাহিত্য আড্ডায় শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় লেখকের বই পড়ার অভিজ্ঞতা, লেখার ভাষা, চরিত্র নির্মাণ ও মানবিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে তরুণদের একটি অংশ বই পড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পাঠাগারকেন্দ্রিক সাহিত্য আড্ডা ও আলোচনা তরুণদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ইমদাদুল হক মিলনের দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেক কেটে তাঁর জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

এদিকে জন্মদিনের আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে অর্ধশতাধিক অস্বচ্ছল শিশুর জন্য একবেলার খাবারের আয়োজন করা হয়। শিশুদের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নেন আয়োজকেরা।

আয়োজকেরা বলেন, সাহিত্য মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বোধ তৈরি করে। তাই একজন মানবিক লেখকের জন্মদিনে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন।

কবি-সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী ও শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগারটি হয়ে ওঠে এক মিলনমেলায়। ‘মিলন মোহনা’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাহিত্য, মানুষ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হয় এক সুন্দর সংযোগ।