প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে প্রতিদিন অপেক্ষা! কয়েক সেকেন্ডের দেখায় গড়ে উঠেছে ভালোবাসার বন্ধন
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে প্রতিদিন রাস্তার পাশে অপেক্ষা
রোদ-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত—সময়টা যেমনই হোক, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের পাশে প্রতিদিন কিছু পরিচিত মুখ দাঁড়িয়ে থাকেন একজন মানুষকে একনজর দেখার অপেক্ষায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি ঠিক কখন ওই পথ দিয়ে যাবে, তা অনেক সময় জানা থাকে না। তবুও নিয়মিত যাতায়াতের সময়ের হিসাব করে কেউ রিকশা নিয়ে, কেউ দোকানের সামনে, আবার কেউ ফুটপাতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। প্রত্যাশা একটাই—প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে একবার চোখের দেখা দেখা।
রমনা থানার পাশে যমুনা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন পাবনার এক বৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন তিনি। গাড়িবহর সামনে এলেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতেন, আর গাড়ির ভেতর থেকেও প্রধানমন্ত্রী হাত তুলে সাড়া দিতেন।
এখন সেই এটিএম বুথ বন্ধ, চাকরিও নেই বৃদ্ধের। কিন্তু থেমে যায়নি তাঁর অপেক্ষা। প্রতিদিন আগের সেই সিকিউরিটি গার্ডের পোশাক পরে হাতে ধানের শীষ নিয়ে তিনি চলে আসেন পুরোনো জায়গায়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি সামনে এলেই যেন তাঁর পুরো দিনের অপেক্ষা সার্থক হয়ে যায়।
বনানীর দুবাই মার্কেটের কাছেও নিয়মিত অপেক্ষা করেন দুই রিকশাচালক। জীবিকার ব্যস্ততার মাঝেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার সময়টুকু তারা আলাদা করে রাখেন। গাড়ি কাছে এলেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারা।
বনানী কাঁচাবাজারের আশপাশে ফুল ও ফল বিক্রেতা, ফুটপাতের হকারদের মধ্যেও রয়েছেন এমন অনেক মানুষ। কাজের ব্যস্ততা থামিয়ে তারা অপেক্ষা করেন সেই কয়েক মুহূর্তের জন্য।
এমনকি রাতে কামাল আতাতুর্ক রোডেও দেখা যায় একজনকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। কখনো সেই অপেক্ষা গড়ায় গভীর রাত পর্যন্ত। গাড়ি কাছে এলে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির গতি কিছুটা কমে, ভেতরের আলো জ্বলে ওঠে। আর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি হাত নাড়িয়ে অভিবাদন জানান।
গুলশান-২-এর প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতরের রেস্তোরাঁ ও হোটেলের কর্মীরাও অনেক সময় রাতে প্রধানমন্ত্রীর ফেরার অপেক্ষায় থাকেন। তাদের কাছে পৌঁছালে গাড়ির ভেতরের আলো জ্বালিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী, যেন অপেক্ষমাণ মানুষগুলো তাঁকে স্পষ্ট দেখতে পান। মুহূর্তেই তাদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ।
কথা হয় না, গাড়িও থামে না। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দেখা আর হাত নাড়ার মধ্যেই শেষ হয় পুরো মুহূর্তটি। তবুও দিনের পর দিন এই ক্ষণিকের দেখাতেই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত আবেগের সম্পর্ক।
শুরুতে অপেক্ষাটা ছিল শুধু পথের ধারের মানুষগুলোর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অপেক্ষার মানুষগুলোও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। পরিচিত জায়গাগুলোতে পৌঁছালে তিনিও যেন খুঁজে নেন সেই চেনা মুখগুলোকে।
কোনো মঞ্চ নেই, নেই বক্তৃতা কিংবা আনুষ্ঠানিকতা। আছে শুধু অপেক্ষা, একঝলক দেখা আর হাত নেড়ে অভিবাদন। কয়েক মুহূর্তের এই নীরব যোগাযোগই যেন তৈরি করেছে প্রধানমন্ত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অন্যরকম আত্মিক বন্ধন।