হরমুজ নিয়ে নতুন সমঝোতা! ইরান-ওমানের বড় আলোচনা

২৬ আগস্ট ২০২৬ - ০৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
 0
হরমুজ নিয়ে নতুন সমঝোতা! ইরান-ওমানের বড় আলোচনা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে আবারও আলোচনায় বসেছে ইরান ও ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার ইরান ও ওমান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি যৌথ অস্থায়ী নৌ চলাচল করিডর গঠনের বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে প্রণালিতে থাকা মাইন অপসারণের বিষয়েও নীতিগতভাবে একমত হয়েছে তারা।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে। যদিও এখনো এই নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।

মঙ্গলবার ওমানের আশ শিসাহ উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে অচল হয়ে পড়ার খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও। ঘটনাটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে ঘটে বলে জানানো হয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবুও শান্তিচুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতি এখনো থমকে আছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘চরম আইনহীনতা’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, সব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মেনে নেবে না।

অন্যদিকে উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ব্যবসায়ীরা এখন পর্যন্ত পরিস্থিতিকে বড় ধরনের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন না।

এদিকে ইরান-সংকটকে কেন্দ্র করে আগে সীমিত করা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে আবারও কর্মী ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মনে করছে, অন্তত স্বল্পমেয়াদে সংঘাত আরও বড় আকার ধারণের ঝুঁকি কিছুটা কমেছে।

তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে ইরান-ওমানের আলোচনা, তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি চাপ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।