রাষ্ট্রপতির বেতন কত? বেতন ছাড়াও পাবেন যেসব সুবিধা!

২২ আগস্ট ২০২৬ - ১২:১০ অপরাহ্ণ
 0
রাষ্ট্রপতির বেতন কত? বেতন ছাড়াও পাবেন যেসব সুবিধা!

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন কত, বেতনের বাইরে তিনি কী কী সুবিধা পান এবং তাঁর হাতে কী ধরনের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে—এসব নিয়েই বিস্তারিত।

রাষ্ট্রপতির বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয় ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এই বেতন আয়করমুক্ত।

তবে শুধু বেতনই নয়, রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে আপ্যায়ন ও বিনোদনের বার্ষিক ভাতাসহ নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা।

সরকারি বাসভবন ও গাড়ি

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। এর সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতি সরকারি গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধাও পান। এছাড়া বিদেশ সফরের সময় সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল

রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে একটি স্বেচ্ছাধীন তহবিল। এ তহবিলে বছরে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার জন্য এই অর্থ ব্যয় করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি ও পরিবারের বিনা মূল্যে চিকিৎসা

রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য রয়েছে বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিতে পারেন।

চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করার বিধান রয়েছে।

বিমানভ্রমণে বছরে ২৭ লাখ টাকা

রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। বর্তমানে এই সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এ সুবিধা ছিল ১৫ লাখ টাকা।

অর্থাৎ মাসিক বেতনের বাইরে রাষ্ট্রপতি সরকারি বাসভবন, গাড়ি ও পরিবহন, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন এবং বিমানভ্রমণসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেয়ে থাকেন।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা

সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন। এগুলো হলো প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন।

দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করা।

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।

দায়িত্ব পালনে দায়মুক্তি

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে সাংবিধানিক দায়মুক্তি ভোগ করেন। তাঁর কার্যকাল চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।

তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের ঊর্ধ্বে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে অভিশংসন করা যেতে পারে। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাঁকে অপসারণের বিধান রয়েছে।

অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কত বছর?

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে নতুন বা উত্তরাধিকারী রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকেন।

একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।