কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ নানা খাতে কর কমানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

২৯ জুন ২০২৬ - ১২:২৬ অপরাহ্ণ
 0
কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ নানা খাতে কর কমানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহার ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর কমানোর পাশাপাশি করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে এই আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনের কারণে আর্থিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই বাজেটের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক খাতে যেকোনো মূল্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। সেই সঙ্গে ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। 

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে দেশ থেকে লাখো কোটি টাকা পাচার হয়েছিল। বিরোধী দলীয় নেতা সেই পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনার কথা উল্লেখ করেছেন। ইতোমধ্যে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনতে সরকার ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। এরমধ্যে অনেকগুলো মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টেন্ট চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়াও ১৫টির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট সই করেছে সরকার। আমরা দেশের আইন-কানুন এবং আন্তর্জাতিক আইন-কানুনের মাধ্যমে যত দ্রুত ও যত বেশি সংখ্যক সম্পদ সম্ভব তা আমরা ইনশআল্লাহ দেশে ফিরিয়ে আনবো।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণের সমর্থন নিয়েই আমরা সরকার গঠন করেছি, সেজন্য করের বোঝা বাড়ানো আমাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নয়। করের বোঝা বাড়িয়ে নয়, বরং হয়রানি কমিয়ে করের ভিত্তিকে বাড়িয়ে শাসন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করতে চায়। সরকার এমন একটি রাজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায় যেখানে করদাতারা কর প্রদান করে উন্নয়নে অংশীদার হবেন এবং গর্বিত অনুভব করবেন। আমরা পর্যায়ের এমন একটি সিস্টেম তৈরি করতে চাই।

এ সময় প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিধান ও কয়েকটি ক্ষেত্রে ভ্যাট কমানোর জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর অব্যাহতির সীমা ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা ব্যক্তি করদাতাদের করভার কিছুটা লাঘব করে তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে চাই। সে জন্য ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা করার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রতি আমি অনুরোধ রাখছি।

কালো টাকা সাদা করার বিধানের প্রসঙ্গে টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন সংক্রান্ত একটি বিধান নিয়ে জনমনে কিছু প্রশ্ন-উদ্বেগ আমরা লক্ষ্য করেছি। ঝামেলা এড়াতে আমাদের দেশে অনেকেই প্রকৃত মূল্যে জমি রেজিস্ট্রেশন করেন না। সাধারণত তারা মৌজা মূল্যে জমি রেজিস্টার করে থাকেন। এজন্য করদাতাদের ঝামেলামুক্ত করার জন্যই কিন্তু এই বিধানটির প্রস্তাব করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত কেউ কেউ এটিকে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ মনে করছেন, আমি জনগণের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে প্রস্তাবিত এই বিধানটিকে প্রত্যাহার করার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কমানো কর হার ১০ শতাংশ থেকে আরও কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করতে ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন ও পরিচালনা করা, গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি পার্বত্য জেলায় পরিচালিত সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়কে করমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গে স্টুডেন্টসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময় এবং বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন ও সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে টিন দাখিলের প্রস্তাব প্রত্যাহারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।