‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক লোক পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের মন্তব্যকে ভারতে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত ২ হাজার ৮৬০টিরও বেশি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে অনেক মামলা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে বলেও দাবি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এই যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে এগোতে পারবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।
মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানরত কোনো বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়া ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয়। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যেগুলো দুই দেশই ব্যবহার করে থাকে। এসব নদী-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সুসংগঠিত দ্বিপাক্ষিক কাঠামো রয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমেই পানি–সংক্রান্ত যেকোনো ইস্যু সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সীমান্তে সম্ভাব্য ‘পুশব্যাক’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বুধবার (৬ মে) তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এমন কোনো ঘটনা ঘটবে বলে তিনি আশা করেন না। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সীমান্তে যদি কোনো ধরনের ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঢোকানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।