পাবলিক পরীক্ষায় বড় পরিবর্তনের আভাস: কমছে পরীক্ষার সুযোগ, যুক্ত হচ্ছে পুনর্মূল্যায়ন
দেশের প্রচলিত পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতিতে যুগান্তকারী কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ পদ্ধতি বাতিল করে পুনর্মূল্যায়ন চালু এবং অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ কমিয়ে আনার বিষয়টি এখন সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সম্ভাব্য সংস্কারের ইঙ্গিত দেন।
প্রধান যে পরিবর্তনগুলো নিয়ে ভাবছে সরকার:

১. পরীক্ষার সুযোগ সংকুচিত করা: বর্তমানে কোনো বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে বা মানোন্নয়নের জন্য একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চারবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান। সরকার এই সুযোগ কমিয়ে মাত্র দুইবারে নামিয়ে আনার কথা ভাবছে। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু রাখা শিক্ষা প্রশাসনের জন্য বাড়তি চাপ।
২. পুনঃনিরীক্ষণের বদলে ‘পুনর্মূল্যায়ন’: বর্তমানে উত্তরপত্র চ্যালেঞ্জ করলে শুধু নম্বর গণনা পরীক্ষা করা হয় (পুনঃনিরীক্ষণ)। কিন্তু সরকার এখন ‘পুনর্মূল্যায়ন’ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে, যেখানে পুরো খাতা নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে নম্বর বাড়ার পাশাপাশি কমার সম্ভাবনাও থাকবে।
৩. ডিজিটাল অপরাধ দমনে নতুন আইন: ১৯৮০ সালের পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত অনলাইন জালিয়াতি, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নকল এবং প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতেই এই আইন যুগোপযোগী করা হচ্ছে।

৪. অভিন্ন প্রশ্নপদ্ধতি সংস্কার: সারাদেশে সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বর্তমান নিয়মটিতেও
পরিবর্তন আসতে পারে। প্রশ্ন ফাঁস রোধে এবং মেধার সঠিক যাচাইয়ে ভিন্ন ভিন্ন সেটে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।