নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের ভাগ্য নির্ধারণ করবে তরুণ ভোটার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলো জনপ্রিয়তা নিয়ে জরিপ চালিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক এডিটরিয়াল নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। তাদের জরিপে বলা হয়েছে, ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার নিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৮ সালের পর এটিই দেশের প্রথম প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন, যেখানে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না। সাম্প্রতিক একাধিক জাতীয় জরিপের সমন্বিত বিশ্লেষণ বলছে, এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে এগিয়ে আছে। তবে ফলের ব্যবধান কতটা বড় হবে, তা নিয়ে রয়েছে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা। খবর দ্য নিউইয়র্ক এডিটরিয়াল
জরিপগুলোর ফলের তারতম্যের পেছনে মূল কারণ পদ্ধতিগত পার্থক্য। ন্যারেটিভ কনসোর্টিয়ামের জরিপটি ছিল ক্রস-সেকশনাল, যেখানে একবারেই ২২ হাজারের বেশি ভোটারের মতামত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইনোভিশনের প্যানেল জরিপে একই ভোটারদের সঙ্গে একাধিক ধাপে কথা বলা হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে ভোটার পছন্দের পরিবর্তন ধরতে সহায়ক।
ইনোভিশনের সর্বশেষ প্যানেল জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ ভোটার ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিদ্ধান্ত নেয়া ভোটারদের বড় একটি অংশ বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক এডিটরিয়াল তাদের বিশ্লেষণে বলছে, এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির কারণে। অতীতে দলটি নিয়মিতভাবে জাতীয় ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ পেত। ফলে তাদের ভোটব্যাংক কোথায় যাচ্ছে, সেটিই নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণ করছে।
জরিপ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘদিনের দমন–পীড়নের অভিজ্ঞতা জামায়াতের প্রতি একটি অংশের সহানুভূতি তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াত যদি জাতীয়ভাবে বিএনপির কাছাকাছি ভোটও পায়, তবুও আসনের হিসাবে তারা পিছিয়ে পড়তে পারে। কারণ জামায়াতের ভোট কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হলেও বিএনপির সমর্থন তুলনামূলকভাবে সারা দেশে বিস্তৃত।
নির্বাচনের ফল নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রথমত, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির অন্তত ৯২ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে কয়েকটি আসনে ভোট বিভাজনের আশঙ্কা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ। মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশ তরুণ। জরিপে দেখা গেছে, প্রথমবার ভোট দেয়া তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জামায়াতকে পছন্দ করছে। তরুণদের উপস্থিতি বাড়লে এর প্রভাব পড়তে পারে ফলাফলে।
তৃতীয়ত, অনিশ্চিত ভোটার। জরিপভেদে ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন। তারা শেষ মুহূর্তে কোন দিকে ঝুঁকবেন, সেটিই ব্যবধান কমানো বা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সমন্বিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারে। জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ৬০ থেকে ১০০টি আসন, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য হতে পারে।